Wednesday, June 2, 2010

বলো না

না না বলো না;
আমার দুয়ারে নিশির আঁধারে
প্রদীপ হয়ে জ্বলবে না ।
সৌ্রভে গৌ্রবে গরবী করিয়া
অনুরাগ রাঙ্গা পরাগে মাখিয়া
আঁধো মেলি আঁখি সখি সূরয্যমুখি
কোন্দিন আর ফুটবে না ।
দূরের তারা হয়ে সময় নদী বেয়ে
রবে তুমি দাঁড়িয়ে দূরে
আমার হিয়া মাঝে নিত্য সকাল সাঁঝে
বাজবে না গানের সুরে
জীবন প্রভাতে ঊষার আলোয় ভরিয়া আমার সারাটি হৃদয়
কালো মেঘে তারে শুধু বারে বারে
হাসি রাশি আর চেও না।

চিঠি

রক্তাক্ত হৃদয় খানি লিপিকা করে
সবুজ মেঝে আমি উড়িয়ে দিলাম।
পাও যদি কোন দিন মনে করো
আহত পাখীর এক সামনে এলাম ।
ক্লান্ত সে ডানাটিরে পারো যদি মেলো ধরে
সোহাগ আদরে তারে বুকের কাছে
বাঁধিয়া রেখো পিয়া জনম জনম ।
সাথী হারা পথ চলা একা একা সারা বেলা
অভিমান যত জ্বালা কথা সুরে গাঁথি মালা
সবি সই তোমা স্মরি নিও পিয় তাহে বরি
না বলার বেদনা যত রক্ত হয়ে খোলা তব বাতায়নে ঝরে গেলাম।
আলিপুরদুয়ার, ২৯/৫/১৯৮৩

জল ভরা

কে যেন সই কানে কানে কহিল “চঞ্চল” যাসনে
যাসনে এখন ভরতে জল।
সাঁঝের বেলায় যমুনা স্মৃতির ভারে আনমনা
দিন গোনায় মন বিষাদ বিভোল ।
ঘুমিয়ে আছে আকাশে চাঁদ তন্দ্রা হারা নিশি জাগি,
ঝরা বকুলে শিশির দোলে ক্লান্তির সুবাস মাখি
বন্দ করি সকল দুয়ার পাষানী আজ বন্দী ওপার
রইতে দে সই একেল বিরল।
গাগরী তোর নাই হোল আজ মিলনের আনন্দে ভরা,
মিছেই কেন হোস উতলা {সে} আপনি আসি দেবে ধরা
বিষাদ ঘন আঁধার নিশি শেষ হবে সই শুনলে বাঁশী
তনু মন করবে টলমল।
আলিপুরদুয়ার,৭/৫/১৯৮৩

জোয়ার ভাঁটা

সময়ের জোঁয়ার ভাটায়
মোর ছোট্ট তরী যায় ভেসে যায়
কোন সে কুলে কে জানে।
আঁকা বাঁকা পথের ধাঁধাঁয় অলস চরন কার পানে ধায়
কোন সে বঁধূর আবাহনে।
কারে চাহি মোর আঁখির পাতা কাজল মাঘের সুরমা পরে
পদ্ম পাতার অধর ঘিরে তৃ্তীয়া চাসিডি লুটিয়ে পড়ে
বিদেশী কোন দূরের প্রিয়া টানে আমার উদাস হিয়া
গোপন প্রেমের বন্ধনে।
আলিপুরদুয়ার, ৬/৫/১৯৮৩

ধূম পান

নিকোটিন দুষট লম্বা বিকলাঙ্গের মিছিল দেখে ভাবি-
এবার ছেড়ে দেবো ধুমপান করা।
তামাটে গোঁফের নীচে বিজয়ী হাসি।
ঠোঁট কাঁটা, গলা গরত, অরধ-পা,শূন্য-বুক,
গলিত হাত, ক্ষয়িত বিভীতস অঙ্গের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে,
ছুঁড়ে দিই বিষাক্ত প্যাকেট। আমার বিস্বাস-
অস্তিত্ব-স্বপ্নের বিলুপ্তি আর প্রত্যক্ষ করবো না,
দরশন হবে না ধোঁইয়ার মাঝে সৃষটি-স্থিতি- প্রলয়ের
বিচিত্র লীলা,এ সব ভাবতেও কান্না পায়।
দুটো হাঁড় আত কয়েক টিকরো মাংসের বিনিময়ে
অমূল্য কল্পনাকে ধরতে হাঁতড়ে বেড়াই
সেই সরবনাশীর খোঁজে।
মাল১৮/৩/১৯৮৩

বরশা শেষে

প্রতিটি বরষা শেষে, কুমারী পৃ্থিবীর বুকে
জীবনের স্বপ্ন বোনে গভীর আনন্দে- সারাটি দিন।
দিনের আলোর সাথে, ঝিম ধরা পা ফেলে
ফিরে চলে – গঘ প্রাঙ্গন ।
মাটির প্রদীপ জ্বেলে, তুলসী মঞ্চ তলে
যেথায় প্রিয়ার আঁখি দুটি শুক তারা হয়ে রয় ।
সোনার ধানের শিষে, চাঁদ তারা হেসে হেসে
কত কথা কত গান বলে যাইয় ঝরনা ধারায় ।
চাষীর হৃদয় পটে, খুশীর জোয়ার ওঠে
মুখরিত গৃহকোন নতুন আশার ফুলে ফলে ।

অন্য অরথ

একটু আদর দিলেই লোভী কুকুরের মত
জিভ জলে ভরে ওঠে, স্নায়ুতে আনন্দের শিহরন।
ক্ষনস্থায়ী সেই অনুভুতির উনুনে –
আমার উপেক্ষা আর ঘৃনার হাজার ক্ষত শুকিয়ে নিয়ে-
জেগে উঠি, ঠিক শীত শেষে বিধবা কৃষ্ণ চূড়ার মত।
আঘাতের অন্য অরথ খুঁজি
যেহেতু সব সৃষটি বেদনায় রাঙ্গানো।
মাল, ১৫/২/১৯৮৩